Monday, July 27, 2026

উৎসর্গ -সপ্তর্ষি

 

উৎসর্গ

 

আমার পিতাকে

যাঁর জীবনের পাথেয় ছিল আপোষহীন নীতি আর শৃঙ্খলা

 

আমার মাতাকে

ছেলেমেয়েদের মেধা ও মননশীলতায় যিনি ছিলেন নিবেদিত প্রাণ

 

আমার স্বামীকে

শিক্ষিত ও সুন্দর পারিবারিক পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য

 

আমার ছেলেমেয়েকে

সবকিছুকে যোগ্য থেকে যোগ্যতর করার জন্য

 

আমার নাতি নাতনী ফারজাদ ফারহিনকে

তাদের সকল প্রয়াসকে সুন্দর ও সার্থক করার জন্য


 

Wednesday, July 22, 2026

মুখবন্ধ

সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব মানুষ। স্বর্গ হতে বহিস্কৃত হয়ে আদম এই বিশ্ব প্রকৃতিকে কেমন দেখেছিলেন জানি না তবে অবাক বিস্ময়ে অভিভূত হয়েছিলেন তাতে কোন সন্দেহ নেই। চারিদিকে সুন্দর আর সুন্দরের সমারোহ। বৈচিত্র্যে ভরপুর। তারপর দেখা পেলেন হাওয়ার। হৃদয় মন আত্মা তার নেচে উঠেছিল আনন্দে। তার হৃদয় নিঃসৃত সেই শব্দ এই শূন্য পৃথিবীতে বলাকার গতির ঝংকারের মতো দিক থেকে দিগন্তে ছড়িয়ে পড়েছিল। এই শব্দতরংগ ভাষা না হলেও,কালি কলমে লেখা না হলেও, তাই–ই সুর, তাই–ই আনন্দ,শিল্প এবং সাহিত্য। সেই সুরের ধ্বনি একদিন ভাষায় রূপ নেয়।

অযুত বরষের পরে আমরা মানুষেরা নানান ভাষায় কথা বলি, গান গাই, অলংকৃত করে সাহিত্যে রূপ দান করি। সাহিত্য কেবল কথার সৌন্দর্য্য সৃষ্টি করা নয়,নান্দনিকতাই নয়,মানুষের জীবনবোধকে উপলব্ধি করা তার বিশেষ একটি দিক। সাহিত্যের প্রধান কাজ মানুষের আত্মাকে অজ্ঞানতার অন্ধকার হতে বাইরে বের করে আনা,তার উপলব্ধিকে জাগ্রত করা,ভালমন্দের সাথে তাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। মানুষকে সুন্দর এবং শান্তির স্বপ্ন দেখানো। 

আজকের বিশ্ব যখন হতাশা, অস্থিরতা, অন্যায়, অবিচারে অশান্ত, তখন সাহিত্য মানুষকে পথ দেখায়। মানুষের এই স্বপ্ন শান্তির পক্ষে,সুন্দরের পক্ষে,অসুন্দর এবং বিনাশের বিপক্ষে। মানুষের অন্তর যখন দুঃখ কষ্টে বিষাদে ম্রিয়মান হয় তখন মানুষ আশ্রয় খোঁজে সাহিত্যে,সংগীতে এবং কবিতায়। সৌন্দর্য্য মিশ্রিত শব্দ বলেই সেটি সাহিত্য। ঐ সৌন্দর্য্য মিশ্রনই শিল্প। সেদিক থেকে কথাশিল্পী একজন সাহিত্যিক।

 

শিল্পবোধের স্থান মানুষের মনে। রসবোধ না থাকলে শিল্প সৃষ্টি হয় না। ভাবনাকে ব্যক্তি থেকে সমষ্টিতে সঞ্চারিত করাই সাহিত্য চর্চা। মানুষ মাত্রেই পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে সুখ ও সৌন্দর্য্যের অনুভূতির পরশ পায়। সেই অনুভূতির প্রকাশ করবার অভিলাষ তাদের আছে। কেউ কেউ অনায়াসে মনের ভাব সৌন্দর্য্য রসে জারিত করে প্রকাশ করে। অনেকেই সাধনা করে হৃদয়ের শিল্পমন্ডিত ভাব প্রকাশ করেন। আমরা পাঠকগণ, সেই সব বাক্য বা সাহিত্য পাঠ করে আমাদের অন্তরের না বলা কথার বহিঃপ্রকাশ দেখে আনন্দ লাভ করি। নিজেকে নির্ভার মনে করি। 

‘হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল, শুধাইলো না কেহ।’ না শুধালেও আমরা সাহিত্যের মাধ্যমে সেই শৈল্পিক রস বোধের আস্বাদ পাই – তখন নিজেকে ধন্য মনে করি। মনে করি যা বলতে চেয়েছিলাম, তা এই সাহিত্যের মাধ্যমে ব্যক্ত হয়েছে।

‘সপ্তর্ষি’একটি সংকলন। নানারকম বিষয় বস্তু এই বইটির প্রান সঞ্চার করেছে। এই গ্রন্থটিতে সাতজন লেখকের অবদান রয়েছে। সুন্দর সুন্দর ভাবনা,বাস্তব জীবনের কথা তারা লিপিবদ্ধ করেছেন গদ্য,পদ্য,শায়েরী ও প্রবন্ধ আকারে। তাদের জীবন দর্শন ও অভিজ্ঞতা এই সংকলনের শ্রী বৃদ্ধি করেছে। এই সাতজন লেখকের দৃষ্টিভঙ্গি,উপলব্ধি,সৃজনশীল প্রকাশ ভঙ্গি প্রশংসার দাবীদার। 

সাহিত্য চর্চা যারা করেন তারা ‘সুমনা।’ সৎ চিন্তা, সৎ কর্ম, সৎ দৃষ্টি ভঙ্গির উপর নির্ভর করে তারা লেখনী ধারণ করেন। নিজেদের হৃদয়ের কথা – সুখের হোক,দুঃখের হোক,প্রকাশ করে শান্তি লাভ করেন। অন্যদিকে পাঠককেও বাস্তব জীবনের কঠিন পরিস্থিতি থেকে ক্ষণিকের জন্য হলেও বের করে আনতে সক্ষম হন। মানুষ শান্তি চায়। শান্তিই বিরাম। শান্তিই অন্তরকে শীতল রাখে, জীবনকে সুখময় অনুভূতির স্পর্শ দান করে, নব আনন্দে,নতুন ছন্দে জীবন যাপনের চাবিকাঠি খুঁজে পায়। 

এই সংকলনের সাতটি নক্ষত্র তাদের আলোর বিচ্ছুরণে পাঠকদের আলোকিত করবেন এই আশা রাখি। পাঠকগণও নিজেদেরকে সমৃদ্ধ করবেন। আনন্দ ও সমৃদ্ধি জীবনের কাংখিত বস্তু। এই গ্রন্থটিতে ৭২টি রচনা স্থান পেয়েছে। অনেক ঘটনা বহুল বাস্তব জীবনের কথা পাঠক হৃদয়কে আন্দোলিত করবে। তাই কম্পিত হস্তে পাঠকদের কাছে ‘সপ্তর্ষি’ গ্রন্থটি সমর্পণ করলাম। আপনাদের ভাল লাগাই আমাদের এই প্রচেষ্টার সার্থকতা।

ফিরোজা হারুন      

১৪ই সেপ্টেম্বর ২০২৩
৩০শে ভাদ্র,১৪৩০

Saturday, July 18, 2026

সূচিপত্র

 সূচিপত্র

ফিরোজা হারুন

কবিতা

স্বপ্নের শবাধার   

করোনা সমাচার  

কোভিড 19        

গল্প

আবর্তন           

কত অজানারে    

জীবনের বাঁকে    

এক টুকরো হাসি    

ছিন্ন বীণা          

জাগিয়া উঠিল প্রাণ   

এক কৌটা কেরোসিন   

বেদনার কালিদহে       

প্রবন্ধ

কাফেলা     

প্রলাপ       

সংলাপ      

এলো খুশীর ঈদ    

দাস প্রথা উচ্ছেদ হয়েছে কি?   

রানা প্লাজা    

স্মৃতিচারণ মূলক রচনা

আমাদের হেলেন আপা    

ডুলি প্রাচীন কালের বাহন    

মৃত্যুর মুখোমুখি    

Saturday, July 11, 2026

কবিতা - স্বপ্নের শবাধার

স্বপন দেখিনু এক           
      রজনীর শেষে
কে যেন ডাকিছে মোরে   
      বাতায়নে এসে
ওঠো ওঠো, চেয়ে দেখ,   
      নরম চাঁদের আলো
দূর করে দিয়ে গেছে,     
      জগতের সব কালো।
ঐ দেখি –
পৃষ্ঠদেশে একজন বহিছে
         সাদা শবাধার
ঃ কেন বহিছ শবাধার? পাওনি কো কিছু আর ?

শুভ্র চাঁদনী রাতে, শুভ্র শবাধার,      
           নিস্তব্ধ চারিধার
সময় পাইনি তার
         মুখাবয়ব দেখিবার!
শুধালাম তারে – কোন পরপারে
কি নিয়ে চলেছ পথিক কোন ঠিকানায়?
ঃ উন্মুক্ত করিয়া দেখ কে যায় কোথায়!

সাদা জোছনা,সাদা শবাধার, 
          সাদা চরাচর,
খুলে দেখি সাদা শব,  
         নিদ্রায় কাতর।
চম্কে উঠি,পিছে হটি, 
        এ যে চেনামুখ!
সারাটি জীবন দেখেছি যে তারে, 
            পেয়েছি যে কত সুখ!
শুধাই তাহারে পুনঃ –
কে তুমি? কেন তারে নিয়ে যাও 
              কোন সুদূরে?
ঃ আমিই তুমি,তুমি যে আমি, 
          চিনিলে না মোরে?

চমক ভাঙ্গিলো মোর,ঘন তমসার ঘোর, 
                     মোর চারপাশে
আমার শব আমিই বইছি, 
                     অস্তাচলের দেশে।

Saturday, July 4, 2026

কবিতা - ‘করোনা’ সমাচার

 কোথায় আল্লাহ্,কোথায় যীশু,

        কোথায় ভগবান?

কোথায় খোদা,কোথায় স্রষ্টা 

        কোথায় শয়তান?

কোথায় ইবলিশ,কোথায় নমরুদ

        কোথায় কামান,কোথায় বারুদ!

কোথায় জ্বীন,কোথায় পরী?

        কোথায় বাদশাহ্,কোথায় সম্রাট?

কোথায় কালাপাহাড়,কোথায় লুকিয়ে 

              বিখ্যাত চেঙ্গিস!

কেউ কি পারে না করতে বিনাশ 

            কভিড ১৯-বিশ?

কোথায় ফেরেশতা,জ্বীনের বাদশাহ্

         কাজ করে কিছু দেখাও তোমরা 

            হাজার বছরের প্রতি –শ্রুত সুরক্ষা।

কেউ আছে কি –

        কেউ কি আদৌ 

              ছিল কোনদিন?

সবদিকে চেয়ে,দেখি আজ যেন

          ব্যর্থ ট্রাম্প ও পুতিন।

নির্মম ভারী,নিষ্ঠুর মারি, 

        বড়ই কঠোর,বড়ই কঠিন, 

সুচতুর তারা আনতে ব্যস্ত  

        ফলস্ ভ্যাকসিন। 

কেউ থাকবেনা আর অসহায়,মানুষের পাশে দাঁড়াবার।                             

          চারিদিকে কেবলই মৃত্যুর হাহাকার!

কেউ নেই কোনখানে,

       কেউ ছিলনা 

          কখনো কোনদিন

শুধু আছে প্যানডেমিক

        বধিবারে প্রাণ,নির্বিঘ্নে নিশ্চিত।

করোনার করুণা চেয়ে 

        লাভ নেই আর,

        মৃত্যুর আঁধার ঢাকে চারিধার।

বিধাতার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষ

        আশরাফুল মখলুকাত, 

             হতবাক আজ ! 

তাদের পৃথিবী কেড়ে নিল কারা –

             কোন মহারাজ?

এই ধ্বংসের জবাব 

        জানা নেই কারো আজ

বড়ই নির্মম,বড়ই নিঠুর,বড়ই নিলাজ,

উন্মত্ত নৃত্যে মত্ত আজিকে আজরাইল 

                   যমরাজ।

‘করোনা কভিড’ হবে সেই দিন শান্ত

রইবেনা যখন এ গ্রহে 

       একটি মানুষও জীবন্ত।

২৮শে মে, ২০২১


উৎসর্গ -সপ্তর্ষি

  উৎসর্গ   আমার পিতাকে যাঁর জীবনের পাথেয় ছিল আপোষহীন নীতি আর শৃঙ্খলা ।   আমার মাতাকে ছেলেমেয়েদের মেধা ও মননশীলতায় যিনি ছিলেন নিব...